ঢাকা ০৩ এপ্রিল ২০২৫ , ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫

​নাগালের মধ্যে দেশীয় ফল, আপেল-আঙুরে অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ০২-০৩-২০২৫ ০২:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন
​নাগালের মধ্যে দেশীয় ফল, আপেল-আঙুরে অস্বস্তি

সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে কাল থেকেই রোজা। ইফতারিতে রোজাদারের মন ভরিয়ে দেয় ফল। তবে এবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফলের দাম। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে গত কয়েক বছর ধরেই ইফতার থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে নানা পদের রসালো ফল। তবে ফল বিক্রেতারা বলছেন, ইফতারে অন্তত দুই থেকে তিন পদের দেশীয় ফলের আয়োজন রাখতে পারবেন রোজদাররা। তবে আমদানি করা ফলের দাম কিছুটা চড়া। 

ইফতারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে তরমুজ আর খেজুরের। দুই বছর ধরে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে তরমুজ কিনতে হয়েছে ভোক্তাকে। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। দেশীয় এই রসালো ফলটি ইতোমধ্যে বাজারে উঠেছে প্রচুর। কেজিপ্রতি দাম নিয়েও নেই অভিযোগ। অতি প্রয়োজনীয় খেজুরের দামও স্থিতিশীল। 

কারওয়ান বাজারের ফল বিক্রেতাদের বক্তব্য, এখন বাজারে পটুয়াখালী থেকে আসা তরমুজ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। 

বিক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, এখন বাজারে প্রচুর তরমুজ। রোজার সময় চাহিদা বেড়ে গেলে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা হতে পারে। পটুয়াখালীর তরমুজ শেষ হলেই বাজারে আসবে খুলনার তরমুজ। সেটির আকার কিছুটা ছোট হওয়ায় দাম একটু বেশি হয়। তারপরও প্রতি কেজির দাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকার বেশি হবে না। 

তিনি বলেন, এরপরই আসবে বরিশালের তরমুজ। ফলে ভোক্তারা চাইলেই সহনীয় দামে এবারের ইফতারে তরমুজ রাখতে পারবেন। 
পান্থপথ থেকে কারওয়ান বাজারে আসা সোলাইয়ামান বলেন, ফলের দাম অনেকটাই সহনীয়। আপেল, আঙুরের দাম আরও একটু কম হলে সবাই খেতে পারত। তবে দেশীয় যে ফলগুলো আছে তার সব কটিই ক্রেতার নাগালের মধ্যে। 

কারওয়ান বাজারে তরমুজের দাম সহনীয় দেখা গেলেও এলাকাভিত্তিক ফুটপাতের দোকানে দাম তুলনামূলক বেশি। গত বৃহস্পতিবার খিলগাঁও কাঁচাবাজারের পাশের ফুটপাতে তরমুজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। 

বাদামতলীর রিফাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রবিউল গতকাল শুক্রবার খবরের কাগজকে বলেন, অন্য বছরের মতো দেশীয় যে ফল আছে সেগুলোর দাম এ বছর অনেকটাই সহনীয়। এর মধ্যে তরমুজ, আনারস, পেয়ারা, বরই অন্যতম। এ ছাড়া স্ট্রবেরিও এখন বাজারে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। বাদামতলীতে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা। কারওয়ান বাজারে স্ট্রবেরির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। 

তিনি বলেন, বাদামতলীতে যে ফলের দাম ৪০ টাকা কেজি সেটির সঙ্গে যাতায়াত ভাড়া, লেবার খরচ, দোকান ভাড়া যুক্ত করলে ১৫ টাকা এমনিতেই বেড়ে যায়। তারপর লাভ বিবেচনায় নিলে কেজিতে ২০ টাকা বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এলাকাভিত্তিক ফলের দোকানগুলো অস্বাভাবিক মুনাফা করতে চাইলে বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। এখন পর্যন্ত খেজুরের প্রচুর আমদানি আছে। ফলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত হবে, পাইকারি বাজারে বেশি নজর না দিয়ে এই রমজানে খুচরা ও এলাকাভিত্তিক দোকানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো। 

এদিকে গত কয়েক দিনে আমদানি করা ফল আপেল, মাল্টা, আনার, নাশপাতি, আঙুরের দাম কিছুটা বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের ফল ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এসব ফলের দাম গত এক সপ্তাহে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। 
এই বাজারে আপেলের কেজি ৩২০ টাকা, সবুজ আঙুর ৩৫০ টাকা, মাল্টা ৩০০ টাকা, কালো আঙুর ৪৫০ টাকা, নাশপাতি ৩৫০ টাকা, কমলা ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ৫ আগস্টের পর সরকার ফল আমদানির ক্ষেত্রে যে বর্ধিত শুল্ক আরোপ করেছিল তা এখনো বহাল থাকায় আমদানি করা ফল খাওয়া ভোক্তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর নির্ধারিত শুল্ক প্রায় অর্ধেক কমানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বাজেটে কিছু শুল্ক একেবারেই বাতিল করা হবে বলে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘ফল আমদানির সম্পূরক শুল্ক (এসডি) ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে সার্কুলার দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তা ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা হিসাব করে দেখেছি, আমদানি করা আপেলে কার্টনপ্রতি ৫০০ টাকা আর আঙুরে কার্টনপ্রতি ৭০০ টাকা কমবে। 
এ সময়ে বাজারে খেজুরেরও প্রচুর সরবরাহ লক্ষ্য করা গেছে।’ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খেজুর আমদানি হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টন। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, এখনো বন্দর দিয়ে প্রচুর খেজুর আমদানি হচ্ছে। 

এ বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ বছর খেজুর আমদানিতে শুল্ককর কমানোর সুফল পাবেন ভোক্তারা। বাজারে এখন খেজুরের দাম স্বাভাবিক। আশা করি এ বছর খেজুরের দাম নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকবে না। 

বাজারে ১০ থেকে ১৫ রকমের খেজুর পাওয়া যাচ্ছে। গত বছরের দামের সঙ্গে তুলনা করলে সাধারণ মান থেকে উন্নত মানের খেজুরের দাম কেজিতে কমেছে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

বাজারে ইরাকের জাহিদি খেজুর পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর রোজায় এই খেজুর বিক্রি হয়েছিল ২৩০ টাকা কেজিতে। এবার একই খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। ইরানি মরিয়ম ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি, আজওয়া সাড়ে ৭০০ টাকা কেজি। 

এ ছাড়া বাজারে পেয়ারা পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। বরই পাওয়া যাচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। আতা ফল পাওয়া যাচ্ছে ৪০০ টাকা কেজিতে। পেঁপে ৮০ টাকা কেজি। বেল পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা পিস। 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ